টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে অনেক সবজি খেত আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে বাইরে সবজি পাঠানো কমে গেছে, একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের চাহিদাও পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
রোববার (২৭ জুলাই) বিরামপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৮০ টাকা, ১৫ টাকার পটল ৫০ টাকা, ২৫ টাকার মুখিকচু ৫০ টাকা, ২০ টাকার ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং ৬০ টাকার করলা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দামই দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সবজির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় আরও কয়েকটি পণ্যের দামও বেড়েছে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা আগে ছিল প্রায় ৩০ টাকা।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা বুলবুল আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের দামও অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে এক কেজি কিনতেন, এখন সেখানে আধা কেজি মরিচ কিনতে হয়েছে ১২০ টাকায়। মোকাম থেকে সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে বলে জানান তিনি।
সবজি চাষি আনিছুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না এবং অল্প পরিমাণ সবজি নিয়ে বাজারে আসতে হচ্ছে।
অন্যদিকে সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর জানান, পাইকারি বাজারেই সবজির দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, টানা বর্ষণে উপজেলার ১১৫ হেক্টর সবজি খেতের মধ্যে প্রায় ২ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং বাজারে সবজির সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।