অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে জড়িয়ে বিতর্কিত ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের মামলায় বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে। ঘটনার জেরে শাসক দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) এবং বিরোধী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে)-এর মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
উদয়নিধি স্ট্যালিন তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ছেলে। আজ মঙ্গলবার সকালে চেন্নাইয়ের বাসভবন থেকে তাঞ্জাভুর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের প্রায় চার ঘণ্টা পর মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশে তিনি মুক্তি পান।
ঘটনার সূত্রপাত:
কাবেরী নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপাতীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে গত সোমবার তাঞ্জাভুরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ডিএমকে। সেখানে বক্তব্য দেওয়াকালে সমর্থকরা 'তৃষা, তৃষা' বলে স্লোগান দিলে উদয়নিধি দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করে বলেন, "অন্য কোথাও পানি পৌঁছাক আর না পৌঁছাক, ওইখানে যেন পানি ঠিকমতো পৌঁছায়।" মুহূর্তেই তিনি অবশ্য মন্তব্য ঘুরিয়ে বলেন যে তিনি কাবেরীর পানির কথাই বুঝিয়েছেন।
তবে তাঁর এই মন্তব্যকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের উদ্দেশ্যে করা কুৎসিত ও কুরুচিকর ইঙ্গিত হিসেবে আখ্যা দেয় শাসক দল টিভিকে। বিজেপি ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও উদয়নিধির মন্তব্যে নারী অবমাননার তীব্র সমালোচনা করে।
আইনি পদক্ষেপ ও জাতীয় নারী কমিশনে অভিযোগ:
এ ঘটনায় তাঞ্জাভুর থানায় উদয়নিধির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা, তামিলনাড়ু নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশ শাসক দল টিভিকে জাতীয় নারী কমিশনেও বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
টিভিকে বিধায়ক রেভন্থ চরণ এবং তামিলনাড়ু বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি ঘটনাটিকে অত্যন্ত 'জঘন্য ও কুৎসিত' আখ্যা দিয়ে উদয়নিধির বিচার দাবি করেছেন। এমডিএমকে নেতা দুরাই ভাইকোসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও তাঁর এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, পুরো ঘটনাকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে দেখছে বিরোধী দল ডিএমকে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন বলেন, "সরকার কাবেরী নদীর মূল ইস্যু থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে এবং বাজেট অধিবেশনের আগে বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধানসভা থেকে দূরে রাখতেই এই গ্রেপ্তারের নাটক করেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "ক্ষমতায় আসার পর রিলস ক্রিয়েটরের মতো ঘুরে বেড়ানো ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি, শুধু সমালোচনা করলেই বিরোধীদের গ্রেপ্তার করছেন।"
স্ট্যালিনের গ্রেপ্তারের পরই ডিএমকে কর্মী-সমর্থকরা রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিপরীতে টিভিকে স্ট্যালিনকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।