মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট) প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের ঘটনায় দেশজুড়ে চলা চরম ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) দেশজুড়ে চলমান তীব্র গণদাবি ও বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় তিন দশক আগে ওডিশায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেই জাতীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত পরিচিতি তৈরি করেছিলেন এই বিজেপি নেতা। যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেছিল, দীর্ঘ তিন দশক পর সেই একই ইস্যুতে তাঁর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটল।
ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান
১৯৬৯ সালের ২৬ জুন ওডিশার তালচেরে জন্মগ্রহণ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বাবা দেবেন্দ্র প্রধান ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী। তবে পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে নিজ আরএসএস-সংযোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ১৯Biological ৯৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দ্রুত কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন তিনি।
১৯৯৬ সালে ওডিশা কাউন্সিল অব হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশনের দ্বাদশ শ্রেণির প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের তিনি ছিলেন প্রধান মুখ। তৎকালীন সময়ে তিনি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) ওডিশা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০০০ সালে ওডিশা বিধানসভার সদস্য এবং ২০০৪ সালে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতীয় জনতা যুবমোর্চার জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।
মোদি সরকারের ‘উজ্জ্বলা ম্যান’ ও দক্ষ কৌশলবিদ
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির প্রথম মন্ত্রিসভায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদে পেট্রোলিয়াম ও ইস্পাত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় সফলভাবে ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ বাস্তবায়ন করায় রাজনীতিতে তিনি ‘উজ্জ্বলা ম্যান’ হিসেবে খ্যাতি পান।
যেভাবে বিতর্কের মুখে পদত্যাগ
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এনসিইআরটির পাঠ্যবই পরিবর্তন, ইউজিসির নতুন বিধিমালা ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে সব সীমা অতিক্রম করে সাম্প্রতিক ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি।
সারাদেশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে পরীক্ষা বাতিল ও স্বচ্ছতার দাবি ওঠে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত আজ তিনি পদত্যাগে বাধ্য হলেন।
একসময় ছাত্রদের নেতৃত্ব দিয়ে যে নেতা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেই পদ ছাড়তে হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে—ভারতের রাজনীতিতে যা এক বিরল বৈপরীত্য হিসেবে চর্চিত হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..