তিন দিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ১৪৪ ধারা জারির আবেদনের মতো থমথমে পরিস্থিতির ইতি ঘটিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) এক মঞ্চে দেখা মিলল দুই প্রধান ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেন দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উপাচার্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিকে তোয়াক্কা না করে ছাতা মাথায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি পুরো ক্যাম্পাস এবং ঐতিহাসিক আবু সাঈদ চত্বর পরিক্রমণ করে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। এর পর শহীদদের স্মৃতিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
সংঘাতের শুরু ও প্রশাসনের পদক্ষেপ:
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত নেতাদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক দফার সেই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন, যার মধ্যে ৫ জনের অবস্থা ছিল গুরুতর।
পরদিন মঙ্গলবার একই স্থানে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দিলে ক্যাম্পাসে নতুন করে মারাত্মক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদনের সিদ্ধান্ত নেয়।
দুই সংগঠনের বক্তব্য ও ভিসির প্রতিক্রিয়া:
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে দুই বিপরীতমুখী রাজনৈতিক শক্তির এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, "২৪-এর জুলাই বিপ্লব আমাদের যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছিল, সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আমরা নতুন দেশ গড়তে চাই। নিজেদের ভেতরের ক্ষোভ বা মতপার্থক্য ভুলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে আমাদের ঐক্য জরুরি।"
অন্যদিকে বেরোবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ জানান, "ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে থাকা সকল ছাত্রশক্তির শান্তিময় সহাবস্থানই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই চিন্তা থেকেই আলোচনার মাধ্যমে আমরা একই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছি এবং সামনেও এই ধারা বজায় রাখতে চাই।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী এই সহাবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তিই ছিল সর্বস্তরের একতা। আমাদের নিজেদের কোন্দল ও ভুলের সুযোগে যেন স্বৈরাচারী শক্তি আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আজকের এই মিলনমেলার মাধ্যমে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির প্রমাণ করেছে বেরোবিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান।"
এ জাতীয় আরো খবর..