পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা সীমান্তে তমিজ উদ্দীন (৭৮) নামে এক দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়ার জেরে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএসএফের ওই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা দীপঙ্কর গোপ (৩০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে এসে নিজেদের হেফাজতে আটকে রেখেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
আটক দীপঙ্কর গোপ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া গ্রামের মিশ্রিলাল গোপের ছেলে।
ঘটনার পেছনের কথা ও ভারতীয়কে আটক:
স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বয়োবৃদ্ধ তমিজ উদ্দীন নিজ বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতে বের হন। হাঁটাচলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেলে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে যায়।
এদিকে, আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপ সীমান্তের শূন্যরেখার ওপাশের একটি চা-বাগানে কাজ করতে আসেন। কাজের একপর্যায়ে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অংশে ঢুকে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে পেয়ে দ্রুত ধরে বিরাজোত এলাকায় নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয়দের জিম্মায় রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি:
বিএসএফের হাতে আটক হওয়া তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, "আমার বাবা কানে ঠিকমতো শোনেন না, বয়সের ভারে ভালোভাবে হাঁটতেও পারেন না। কেবল হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতেই সীমান্তে গিয়ে ভুলবশত কাঁটাতারের কাছে চলে গিয়েছিলেন। আমরা অবিলম্বে বাবার ফিরিয়ে দেওয়া চাই। বিএসএফ যদি বাবাকে ফিরিয়ে না দেয়, তবে আটকে রাখা ভারতীয় নাগরিককেও কোনোভাবেই ছাড়া হবে না।"
সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিজিবির উদ্যোগ:
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতমেরা সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং এলাকায় তীব্র চাপানউতোর বিরাজ করছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বার্তা না দেওয়া হলেও, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, বয়োবৃদ্ধ তমিজ উদ্দীনকে ফেরত আনা এবং ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক (Flag Meeting) আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।