কুড়িগ্রাম জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ মিনার এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট দূর করতে শাপলা চত্বর ও শহীদ মিনারের সীমানার কিছু অংশ ভেঙে সড়ক প্রসস্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে শহীদ মিনারের অংশ বিশেষ ভেঙে সড়ক চওড়া করার এ পদক্ষেপে স্থানীয় বাসিন্দা, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) কুড়িগ্রাম পৌরসভা এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন মোড়ে এ অপসারণ ও সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য ও যুক্তিকতা:
কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী প্রধান সড়কের মেলবন্ধন এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর এলাকা। ব্যস্ত সময়ে এখানে বাস, ট্রাক ও থ্রি-হুইলারের জটলায় তীব্র যানজট তৈরি হয়ে চরম ভোগান্ত পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
সওজ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, "মোড়টি অত্যন্ত সংকুচিত হওয়ায় যানজট কমানোর লক্ষ্যে শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট পরিধির অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। এতে রাস্তা চওড়া হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এটি একটি সংবেদনশীল স্মারক স্থাপনা হওয়ায় জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
কাজ পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, "শহীদ মিনারের মূল মূলস্তম্ভ বা বেদিতে কোনো হাত দেওয়া হচ্ছে না। মূল অবকাঠামো অক্ষত রেখে কেবল যাতায়াতের বাধা তৈরি করা অব্যবহৃত অংশটি সরানো হচ্ছে, যাতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল মসৃণ হয়।"
সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিকদের আপত্তি:
তবে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতিকে নীতিগতভাবে ভুল বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের মতে, শহীদ মিনারের ইতিহাস ও মর্যাদাকে সংকুচিত না করে বিকল্প উপায়ে রাস্তা চওড়া করা সম্ভব ছিল।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, "শহীদ মিনারের সীমানা কেটে রাস্তা বাড়ানো কোনো যুক্তিযুক্ত সমাধান হতে পারে না। কাছেই রেলওয়ের খাসজমি ও অনিয়ন্ত্রিত দোকানপাট রয়েছে। প্রয়োজনে সেই জমি অধিগ্রহণ বা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে পথ চওড়া করা যেত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "মাতৃভাষা আন্দোলনের মহান স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনারের জায়গা ছোট করা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মানসিকতার সঙ্গে একেবারেই মেলবন্ধনে যায় না।"
এ জাতীয় আরো খবর..