রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী শহীদ মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, মোসলেম উদ্দিন মিলন ও সাজ্জাদ হোসেনের দ্বিতীয় শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘রক্তাক্ত রাজপথ’ শিরোনামে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে রংপুর মহানগর যুবদল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।
রংপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী মিলনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম লেলিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও রংপুর জেলা সভাপতি নাজমুল আলম নাজু। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন।
স্মরণসভায় বক্তারা জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার প্রধান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মা ময়না বেগম, শহীদ মেরাজুল ইসলামের স্ত্রী নাজমীম ইসলাম এবং শহীদ মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
পরে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রংপুর নগরীর সিটি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে সাজ্জাদ হোসেন, মোসলেম উদ্দিন মিলন, মেরাজুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তাহির শহীদ হন।