রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরাজী বীরচরণ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবক পলাশ মিয়া (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) রাতে উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোজাহার আলী আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত সাদুল্ল্যাহর ছেলে।
ঘটনার পটভূমি ও হামলা:
মামলার এজাহার ও তদন্ত কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন সূত্রে জানা গেছে, পলাশদের অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি তাঁদের চাচার কাছ থেকে গোপনে কেনার পাঁয়তারা করছিলেন মোজাহার আলী। গত ১০ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে মোজাহারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরবর্তীতে ওই রাতেই মোজাহার, তাঁর দুই ছেলে সাব্বির ও সজিব এবং আত্মীয় সোনা মিয়াসহ কয়েকজন যুবক লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাহেবগঞ্জ বাজারের তিনমাথা মোড়ে পলাশের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পলাশের মা ও মেজ ভাই আশরাফুলও মারধরের শিকার হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে পলাশের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
মামলা দায়ের ও পুলিশের সাফল্য:
ঘটনার পর নিহতের পরিবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় একটি লিখিত হত্যা মামলা দায়ের করে।
রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার পরিদর্শক অশোক চৌহান জানান, দুপুরে মামলাটি নিবন্ধিত হওয়ার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযানে নামে। মামলা দায়েরের মাত্র ৭ ঘণ্টার মাথায় কাচু আলুটারি গ্রাম থেকে প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তিনি আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..