জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা, হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আজ সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল বের করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের কাছে মূল ফটকের দিকে এগোলে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তোলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় মিছিল থেকে একজনকে আটক করা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বেলা ১১টার দিকে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়ার মুখে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে প্রধান ফটক সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। অপরদিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে ও মহাসড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উভয় পক্ষের দাবি ও বক্তব্য:
ঘটনার বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বলেন, "‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। উপাচার্যের ৪ নম্বর গেটের কাছে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আচমকা আমাদের ওপর হামলা চালায়। মিছিলে কোনো বহিরাগত ছিল না।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সদস্য আল আমিন, হাফিজুর রহমান ও শাহীনসহ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, "শিবির বহিরাগতদের এনে ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের বহিরাগতদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে কোনো ‘গুপ্ত সংগঠন’কে অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না—এই দাবি আমরা উপাচার্যের কাছে জানিয়েছি।"
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসেন জানান, "ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"