সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর মধ্যরাতে গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে কান্নার রোল।
পরিবারের অভাব দূর করতে প্রবাসে গিয়ে আগুনে পুড়ে এভাবে স্বজনদের প্রাণ হারানোর খবর মেনে নিতে পারছেন না নিহতদের পরিবার।
নিহতদের পরিচয়:
আত্রাই উপজেলার নিহতের তালিকায় একই পরিবারের দুজনসহ মোট ১৩ জন রয়েছেন। তারা হলেন—
গন্ডগোহালি গ্রাম: দুই ভাই মহন প্রামাণিক (২২) ও সুমন প্রামাণিক (১৬), রুবেল প্রামাণিক (৩০) এবং কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫)।
ডুবাই গ্রাম: সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭)।
খরস্রোতা গ্রাম: মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮)।
অন্যান্য গ্রাম: সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)।
স্বজনদের আহাজারি ও হৃদয়বিদারক চিত্র:
নিহতদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। দুই সন্তান মহন ও সুমনকে হারিয়ে মা ময়না খাতুন কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, "ছেলে দুটো কষ্টে উপার্জনের টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করেছিল। বাড়ির কাজ শেষ করে বাড়ি এসে বিয়ে করার কথা ছিল বড় ছেলের। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।"
১৪ দিনের সদ্যজাত সন্তান রেখে মারা যাওয়া রুবেলের বাবা সাইদুর আক্ষেপ করে বলেন, "ছয় মাসের ছুটি শেষে মাত্র তিন মাস আগে ছেলেটা সৌদি ফেরত গেল। দুনিয়ার বুকে তো আমাদের দেখার মতো আর কিছু থাকল না।"
অন্য নিহত হাসিবুলের পরিবার জানায়, দিনের বেলা কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় শ্রমিকরা ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ আগুন লাগায় তারা বের হতে পারেননি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় পুরোপুরি শনাক্তকরণ ও তাঁদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও দূতাবাস নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
এ জাতীয় আরো খবর..