রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সীমান্ত চন্দ্র দাস নামের এক যুবক। সে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই মূল আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের খাসকামরায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সীমান্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে এবং একটি পোশাক দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি।
ইয়াবা সেবনের তথ্যে মিল:
মামলার নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, জবানবন্দিতে সীমান্ত উল্লেখ করেছে যে হত্যাকাণ্ডের রাতে দুই আসামি তাঁর বাসাতেই অবস্থান করেছিল এবং সেখানে তারা মাদক (ইয়াবা) সেবন করে।
আসামিদের পূর্বে দেওয়া স্বীকারোক্তির সাথে সাক্ষী সীমান্তের এই বয়ানের শতভাগ মিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আসামিদের ডোপ টেস্টের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান এই তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্তে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস:
পুলিশের পূর্ববর্তী বক্তব্যের কিছু অসঙ্গতি ও সুশীল সমাজের সমালোচনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আশ্বাস দিয়ে বলেন, "নগরবাসীর মনে তৈরি হওয়া সব প্রশ্নের জবাব বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। মামলাটিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।"
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট (শনিবার) রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজস্ব বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেধাভী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রাপ্তি (২৫) ও ছোট ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। পরবর্তীতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।