ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দূরত্ব কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জোটবদ্ধ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ৪১টি শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজের আয়োজন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি টেবিলে নিজে গিয়ে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কুশল ও মতবিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে সৃষ্টি হওয়া দূরত্ব ও মান-অভিমান কাটিয়ে উঠতেই এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা, যৌথভাবে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ এবং বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিকদের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করা শরিকদের অবদান ভোলার নয়। সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা এবং জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি গত পাঁচ মাসে সরকারের নেওয়া কৃষি ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের মতো উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।
অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সরকার ও শরিকদের মধ্যে এ ধরনের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকবে।
তবে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি অংশ আমন্ত্রণ পেলেও এই নৈশভোজে অংশ নেয়নি।