দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বহু ভবন ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছেন। ভূমিকম্পের বিকট কম্পন রাজধানী বোগোটাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিট) এই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
উৎপত্তিস্থল ও ক্ষয়ক্ষতি:
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকা। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পেরেইরা ও মানিজালেস শহর থেকে। ২০ লাখ মানুষের শহর কালিতে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো জানান, অন্তত ২০টি বিধ্বস্ত ভবনের ভেতর বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। আটকে পড়াদের উদ্ধারে বোগোটা ও মেডেলিন থেকে বিশেষ উদ্ধারকারী দল তলব করা হয়েছে। এছাড়া মানিজালেস শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী ক্যাথেড্রালের টাওয়ার ধসে পড়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ:
কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা অ্যাসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই জাতীয় দুর্যোগের মুখোমুখি হলেন। তিনি সান হোসে দেল পালমারে জরুরি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপন করে উদ্ধারকাজ ব্যক্তিগতভাবে তদারকির ঘোষণা দিয়েছেন।
ভূমিকম্পের ধাক্কায় দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় উড্ডয়ন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চোকো অঞ্চলের গভর্নর নুবিয়া কোরদোবা জানান, আঞ্চলিক রাজধানী কুইবদোতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কলম্বিয়ায় ৬ মাত্রার ওপর ভূমিকম্প সচরাচর দেখা যায় না। এর আগে ১৯৯৯ সালে আরমেনিয়া শহরে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১,১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।