নদীর ওপর তৈরি কাঠের সেতুটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর ও আশপাশের ১০টি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রাণনাথ চর এলাকার নদী পারাপারের এই কাঠের ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি হঠাৎ করেই ব্রিজটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। ফলে এলাকাটির স্বাভাবিক যাতায়াতব্যবস্থা একেবারেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
কৃষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ:
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও জরুরি চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগীরা।
প্রাণনাথ চর ও সংলগ্ন এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, তাজা সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাটে নিয়ে যেতে পারছেন না। নৌকায় বা বিকল্প পথে যাতায়াতে পরিবহন খরচ যেমন দ্বিগুণ বেড়েছে, তেমনি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তাঁরা।
সজিবুর রহমান নামের এক স্থানীয় শিক্ষার্থী জানায়, "ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় করে স্কুলে যেতে হচ্ছে। নৌকায় পার হতে খুব ভয় লাগে। দ্রুত এটি মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"
পাকা সেতুর আকুল দাবি:
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম সরকার বলেন, "ফাটল ধরা জরাজীর্ণ ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় আমাদের যোগাযোগের সব পথ বন্ধের উপক্রম। জরুরি ভিত্তিতে এখানে যাতায়াতের জন্য সাময়িক বিকল্প পথ এবং স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।"
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ:
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, "কাঠের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা করব। একই সঙ্গে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।"
এ জাতীয় আরো খবর..