রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও শোক র্যালি করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রংপুর জিলা স্কুলের মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিটিতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
বিচার নিয়ে শঙ্কা ও ক্ষোভ প্রকাশ:
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হাতে কালো ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্লেকার্ড নিয়ে গণপতি চক্রবর্তীসহ নিহত চারজনের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অত্যন্ত সম্মানিত একজন সাবেক শিক্ষক ও সমাজের পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর মতো একজন নিভৃতচারী শিক্ষক এবং তাঁর সহধর্মিণী ও দুই সন্তানকে—যার মধ্যে জিলা স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়মও রয়েছে—এমন নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা পুরো রংপুরবাসীকে স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন:
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ যে নাটकीय প্রক্রিয়ায় তদন্ত সাজিয়ে তড়িঘড়ি দুজন আসামিকে আইনের আওতায় এনে স্বীকারোক্তি দেওয়ার কথা বলছে, তা সাধারণ মানুষের মনে মারাত্মক সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, "পুলিশের এই তড়িঘড়ি বক্তব্য ও রহস্যজনক পদক্ষেপ বিচারের নামে এক ধরণের প্রহসন। এর মাধ্যমে মূল অপরাধীরা আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এই সস্তা ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি।"
শোক র্যালি প্রদর্শন:
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে একটি বিশাল শোক র্যালি বের করেন জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। র্যালিটি রংপুর নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকার তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ছেলে আয়ুশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন রবিবার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় ওই দুই মামাতো ভাই চারজনকে হত্যা করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশি এ বক্তব্য মানতে নারাজ স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা।
এ জাতীয় আরো খবর..