বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও ঐতিহাসিক অর্জন ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদুল হাসান জয়রা। দীর্ঘ ছয় বছর পর ঐতিহ্যবাহী সেই মাঠে ফিরে স্মৃতিকাতর ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়।
অধিনায়ক হয়ে পুরোনো মাঠে ফেরত:
জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এবারই প্রথম বাংলাদেশ 'এ' দলের অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছেন হৃদয়। পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টে মাঠে নামার আগে পুরোনো স্মৃতিতে ডুব দেন এই তরুণ সেনাপতি।
ঐতিহাসিক সেই মাঠে দাঁড়িয়ে যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্য তিন সদস্য—মাহমুদুল হাসান জয়, পারভেজ হোসেন ইমন এবং হাসান মুরাদকে নিয়ে ছবি তোলেন হৃদয়। সেনওয়েস পার্কের 'চ্যাম্পিয়নদের ঘর' লেখা স্মৃতিফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা সেই ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে হৃদয় লেখেন, “এই সেই মাঠ যেখানে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস। আবারও সেই মাঠে আসার অনুভূতি কখনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বজয়ের সংকল্প:
২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে বসবে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। আর সেই মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছেন হৃদয়। আবেগঘন পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, “এই মাঠে বিশ্বজয়ের হাসি ছিল মুখে। এই মাঠেই ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বজয় করার স্বপ্ন আমার এবং আমাদের। চেষ্টা করব আগের চেয়েও অনেক বেশি। বাংলাদেশের পতাকা আরও একবার হাতে নিয়ে স্বগৌরবে দৌড়ানোর ইচ্ছা। ইনশা আল্লাহ সম্ভব।”
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপজয়ী এই চার ক্রিকেটারের মধ্য থেকে তাওহীদ হৃদয় ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ১টি টেস্ট, ৫৬টি ওয়ানডে ও ৬৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। অন্যদিকে জয় ২৩টি টেস্ট, ইমন ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ও মুরাদ ২ টেস্ট খেলে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।