স্মার্টফোনে যোগাযোগের বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এত দিন অপরিচিত ব্যক্তি বা কোনো গ্রুপ চ্যাটে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ হয়ে যাওয়ার যে দীর্ঘদিনের অসস্তিকর সংকট ছিল, তা কাটাতে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে অনন্য ‘ইউজার নেম’ সুবিধা। নতুন এই ফিচার চালু হলে মোবাইল ফোন নম্বর গোপন রেখেই ইউজার নেমের মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করা যাবে।
মেটা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর প্রাইভেসির বিষয়টি মাথায় রেখে ধাপে ধাপে ফিচারটি চালু করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহারকারীদের কাঙ্ক্ষিত ইউজার নেম বুকিং বা রিজার্ভ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নম্বর থাকবে আড়ালে, রাজত্ব করবে ইউজার নেম
নতুন সুবিধার ফলে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হলেও তা অন্যদের কাছে সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে। হোয়াটসঅ্যাপের প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স জানান, ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির কথা ভেবেই ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় তাঁদের ইউজার নেম পরিবর্তন বা মুছে ফেলার সুযোগ পাবেন।
ইউজার নেম নির্বাচনের নিয়মাবলি
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী:
দৈর্ঘ্য: ইউজার নেম ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে হতে হবে।
অক্ষর ও প্রতীক: ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, ফুলস্টপ ও আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্তত একটি ইংরেজি অক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
নিষেধাজ্ঞা: ভুয়া অ্যাকাউন্ট রোধে কোনো ইউজার নেম 'www.' দিয়ে শুরু করা যাবে না কিংবা শেষে কোনো ডোমেন যুক্ত করা যাবে না।
সংরক্ষিত নাম: হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্ব বা বিশ্বনেতাদের নাম নকল করা বন্ধ করতে সেসব ইউজার নেম আগে থেকেই লক করে রাখছে হোয়াটসঅ্যাপ।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে সমন্বয়
মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম—ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ইউজার নেমটিই যদি কেউ হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করতে চান, তবে মেটা 'অ্যাকাউন্টস সেন্টার'-এর মাধ্যমে মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, এই ইউজার নেম নির্ধারণ বা বুকিংয়ের কাজ শুধু মোবাইল অ্যাপের প্রোফাইল সেটিংস থেকেই করা যাবে; হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা পিসি সংস্করণে এই সুবিধা মিলবে না।
সিকিউরিটি ও স্ক্যাম প্রতিরোধ
ইউজার নেম চালুর ফলে কোনো অপব্যবহার বা প্রতারণা যাতে না বাড়ে, সে জন্য বহুস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে ‘ইউজার নেম কি’ নামক একটি সংক্ষিপ্ত কোড যুক্ত করা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া অপরিচিত কাউকে প্রথমবার বার্তা পাঠাতে বাধা দেবে। এ ছাড়া সন্দেহজনক ব্যবহারকারীকে ব্লক ও রিপোর্ট করার সুবিধা বহাল থাকছে।
তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মূল মেসেজ এনক্রিপ্টেড থাকলেও বয়স বা লোকেশনের মতো মেটাডেটা সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।