রাতারাতি যেন গিলে খেতে চাইছে যমুনা। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। ইতোমধ্যে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে যমুনার উজানের প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাক নদীতীরকে ক্রমাগত ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। নদীর সঙ্গে সময়ের লড়াইয়ে নামতে হয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদের উপস্থিতিতে শ্রমিকেরা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত ছিলেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টুও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাউবো জানিয়েছে, আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের চাপ কমাতে সড়কের পাশের গাছ কেটে নদীতে ফেলা হচ্ছে।
তবে ততক্ষণে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাদীর হাসান শিবলী বলেন, কয়েক দিন ধরেই যমুনা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা না নিলে মহাসড়কও নদীতে বিলীন হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে একই সংকট বারবার ফিরে আসে। তারা দ্রুত টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের যেসব অংশ সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো করা হলে সড়কটি নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।
এখন প্রশ্ন একটাই—জিও ব্যাগ কি পারবে যমুনার এই ক্ষুধার্ত স্রোতকে থামাতে, নাকি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হারানোর সাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল?
এ জাতীয় আরো খবর..