টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নদী তীরবর্তী ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার প্রায় ১৫টি নিম্নাঞ্চলের গ্রামে পানি প্রবেশ করে নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদীর প্রচণ্ড জলচাপ সামলাতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অথচ একদিন আগেও মঙ্গলবার বিকেলে একই স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। হঠাৎ রাতারাতি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো মানুষ:
নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে হু-হু করে পানি ঢুকছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, গভীর রাত থেকেই নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সকালে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্বছাতনাই গ্রামের অন্তত দেড় হাজার পরিবার জলজট ও বন্যার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। একই রকম তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলামও।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য:
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় স্থানীয়ভাবে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে তিস্তায় পানির প্রবাহ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সকালে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর উঠে যায়।
তিনি আরও জানান, ব্যারাজের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি কপাট সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে। পাউবোর ধারণা অনুযায়ী, আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।