রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া ও চিনে ফেলার আশঙ্কায় পুরো পরিবারটিকে গামছা ও রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত দুই মামাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও প্রাথমিক স্বীকারোক্তি:
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মুগ্ধ দাস এবং তাঁর মামাতো ভাই সিদ্ধার্থ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
যেভাবে ঘটে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড:
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়ার ওই বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়। ঘটনার রাতে অভিযুক্ত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন।
ছাদে খটখট শব্দ শুনে গৃহকর্তা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে পরিস্থিতি দেখতে ছাদে ওঠেন। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের চিনে ফেলায় তৎক্ষণাৎ গণপতি চক্রবর্তীর গলার গামছা দিয়েই তাঁকে প্রথম শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে ছাদে শব্দের কারণ দেখতে ও স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে যান তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী। তাঁকেও একইভাবে সিঁড়িতেই গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকেরা।
বাবা-মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁদের মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রাপ্তি। তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় দুজন। প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট চেষ্টার পরও গামছা দিয়ে হত্যা করতে না পেরে শেষে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
সবশেষে পরিবারের অন্যদের হত্যার ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায় এবং ঘাতকদের কেউ শনাক্ত করতে না পারে, সেই আশঙ্কায় ওই দম্পতির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
পুলিশ জানায়, চারজনকে নির্মমভাবে হত্যার পর পুরো বাড়ি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে স্থান ত্যাগ করে অভিযুক্তরা। পরে শনিবার রাতে পচা দুর্গন্ধ ও স্বজনদের সন্দেহের ভিত্তিতে বন্ধ বাড়ি থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও সিআইডি।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনার পর থেকেই আলামত ও প্রযুক্তিগত তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত দুই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
এ জাতীয় আরো খবর..