দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বরিশাল নগরীর মানুষ। গরমে অতিষ্ঠ স্বাভাবিক জনজীবনের পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিস-আদালতের কাজ। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের জোগান চাহিদার চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত নিরসনের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য ও সরবরাহ ঘাটতি:
বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অঞ্চলে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ৬২ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
একই চিত্র বিতরণ বিভাগ-২-এ। দপ্তরটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তাঁর আওতাধীন এলাকায় ৪০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি এবং কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি জটিলতার কারণে সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
নগরবাসীর তীব্র ভোগান্তি:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর অধিকাংশ এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। গরমের তীব্রতায় রাতে বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে অবস্থান নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বাসদের বিক্ষোভ ও দাবি:
বিদ্যুৎ বিপর্যয় কাটিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করার দাবিতে মঙ্গলবার অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাবেশ করে বাসদ। জেলা সমন্বয়ক ডা. মনিষার সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। এভাবে চলতে থাকলে চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হবে। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তাঁরা।
এ জাতীয় আরো খবর..