লালমনিরহাটে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মেহরুন নাহার মেরীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হাশেম বাবুলের বিরুদ্ধে গুরুতর নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন—আইনের প্রয়োগ কি সবার জন্য সমান?
সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় মেরী গ্রেপ্তার:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় (মামলা নং-০৫/২৬) মেহরুন নাহার মেরীকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় আরও শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হাশেম বাবুলকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ:
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হাশেম বাবুলের বিরুদ্ধে অতীতে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলে বড় ধরনের অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও তার নাম স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে আলোচিত। কিন্তু অজানা কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ:
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম. এ. হাশেম বাবুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এ সময় সংবাদের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
প্রভাবের কারণে মুখ খুলতে ভয়:
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, হাশেম বাবুলের বিশাল আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে বা অভিযোগ দিতে সাহস পান না। কোনো অভিযোগ করলে পরবর্তীতে নানা ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ডিবি পুলিশের প্রতিক্রিয়া:
বিষয়টি নিয়ে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসির সাথে কথা বললে তিনি জানান, হাশেম বাবুলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনমনে প্রশ্ন:
একই সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে একজনকে মামলার প্রধান আসামি করে কারাগারে পাঠানো হলেও অন্যজনের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের একটাই দাবি—অপরাধী যে-ই হোক, আইনের নিরপেক্ষ ও সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..