প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুনির্দিষ্ট সমীক্ষা সম্পন্ন করে আগামী বছরই বহুমুখী ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের গোলমুন্ডা এলাকায় সানিয়াজান নদীতে সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
নতুন ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ:
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, তিস্তা অববাহিকায় শুষ্ক মৌসুমে যে তীব্র পানি সংকট তৈরি হয়, তা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি কমিটির পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। সেই কমিটি নদীর পানি ধরে রাখার স্বার্থে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারাজ’-এর ভাটিতে নতুন আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করেছে।
তিনি আরও জানান, এই কারিগরি প্রস্তাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
পরিকল্পনা ও অগ্রগতি:
প্রকল্পের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত আন্তরিক এবং ইতিমধ্যে এর প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এটি একটি বিশাল ও সংবেদনশীল প্রকল্প। জনগণের বিপুল অর্থের যেন অপচয় না হয় এবং প্রকল্পটি যেন শতভাগ কার্যকর রূপ পায়, সে জন্য আমরা সব যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে আগামী বছর মূল কাজ শুরু করতে পারব।"
এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দিনব্যাপী উন্নয়নমূলক সফর:
এর আগে সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়িতে জেলার সমতলের প্রথম চা বাগান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করেন ত্রাণমন্ত্রী। পরবর্তীতে দুপুরে পাটগ্রাম থানার নতুন প্রশাসনিক ভবন এবং বিকেলে উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা ও নদীভাঙন আশ্রয়কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।