গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকার কোনো হদিস মিলছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, ব্যাংকে জমা করা আমানতের লভ্যাংশ দূরে থাক—মূলধনেরও সঠিক হিসাব দিতে পারছে না শাখা কর্তৃপক্ষ। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি সবাই জানার পর থেকে উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীরা ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাখা থেকে দেওয়া টাকা জমার স্লিপ বা জমার রসিদ (ডিজিট) হাতে থাকলেও ব্যাংকের মূল সার্ভার বা হিসাব বিবরণীতে (স্টেটমেন্ট) সেই তথ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ এজেন্ট শাখার কর্মকর্তা বা কর্মীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা মূল ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়ার বাসিন্দা সোলেমান সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি প্রতি মাসে কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে ডিপিএস ও আমানত হিসেবে জমা রেখেছি। ব্যাংক থেকে দেওয়া ভাউচার আমার কাছে আছে, কিন্তু ব্যাংকের মূল সিস্টেমে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কোনো টাকাই জমা হয়নি! শুধু আমার একার নয়, শত শত সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ প্রতারণা করা হয়েছে।"
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী ব্যাংক গাইবান্ধা প্রধান শাখার এক কর্মকর্তা জানান, "বিষয়টি জানার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। এজেন্ট শাখার দাখিলকৃত হিসাব ও সার্ভারের প্রকৃত ডেটা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ঘটনার পর থেকে পুরো ধাপেরহাটজুড়ে চরম অসন্তোষ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে জমামো আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।