নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যচাপের মধ্যেই নতুন করে বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ডজনপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রোটিনের সহজলভ্য এই উৎসের দাম। এমনকি গত এক মাসের হিসাবে ডজনে এই বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, মুরগির বাজারে নতুন করে কোনো অস্থিরতা দেখা দেয়নি; ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সেগুনবাগিচাসহ একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের বাজারদরের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে একই মানের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। অথচ এক মাস আগেও বাজারে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রচণ্ড গরমে মুরগির ডিম উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। আর পাইকারি পর্যায়ে দরবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে খুচরা বাজারে।
এদিকে ডিমের বাজারে এই দরবৃদ্ধি হলেও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং কক বা সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, খামার থেকে মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে আসা ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের অভিযোগ, শাকসবজি, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের চড়া দামের পর এবার ডিমের দাম বাড়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ ডিমের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করলেও দরবৃদ্ধির কারণে এখন অনেকেই কেনাকাটার পরিমাণ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।