নেপালে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার সময় বুধবার সকালে অনুভূত হওয়া তীব্র কম্পন মূলত ভূমিকম্পের জন্য নয়, বরং হিমবাহ ও শক্তিশালী ভূমিধসের ফলে তৈরি হয়েছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে পড়ার পর পাহাড় থেকে পাথর, কাদা ও বিপুল ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নদীপথে আছড়ে পড়ায় এই শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি হয়—যার মাত্রা ছিল ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।
পূর্বে ভুলবশত ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করা তথ্য পরে সংশোধন করে ইউএসজিএস জানায়, লহেন্দে ও ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ বিশাল ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয় ঘটে।
মৃতের সংখ্যা ও বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ:
নেপাল ও সীমান্ত সংলগ্ন তিব্বত জুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল নেপাল পুলিশই ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর থেকে অন্তত ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক রয়েছেন।
তিব্বতেও প্রভাব ও ধ্বংসযজ্ঞ:
ঘটনাটি নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সংঘটিত হয়। পানির তোড়ে নদীর আশপাশের বহু ঘরবাড়ি, অবকাঠামো, গাছপালা ও যানবাহন কাদা-পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সীমান্তের তিব্বত অংশেও (গিরং এলাকা) এ দুর্যোগের কারণে ৩ জন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধার কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জরুরি উদ্ধার তৎপরতা:
নেপালের রাসুওয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোটসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্গতদের বাঁচাতে ও নিখোঁজদের অনুসন্ধানে সরকারের সমস্ত জাতীয় সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সাথে সাথে আশার আলো ক্ষীণ হয়ে আসছে।