রংপুরের মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে উন্নয়নের সাথে শর্তযুক্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রংপুরে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
বক্তাদের ক্ষোভ ও দাবি:
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান বলেন, "মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন এক ইঙ্গিত ফুটে উঠেছে যে, রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি কিংবা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার কারণেই নাকি এ অঞ্চল উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা, বিবেক ও সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে খাটো করে।"
তিনি আরও বলেন, "কাকে ভোট দেওয়া হবে তা জনগণের সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার। কোনো অঞ্চলের রাজনৈতিক পছন্দের সাথে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকে যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের সুষম উন্নয়ন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা যেকোনো সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।"
এ সময় নেতৃবৃন্দ রংপুরের বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নসহ ঐতিহ্যবাহী তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সাথে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
পটভূমি:
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর উক্ত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রংপুর অঞ্চলের জামায়াতের ১১ জন সংসদ সদস্য (এমপি) যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুরের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘রংপুরের লোকেরা, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি, যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’ মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত রংপুরজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..