রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় বহুল আলোচিত একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে শেষ দফায় জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই আসামিকে দুই দফায় মোট ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর আনুমানিক ২টা পর্যন্ত রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দ্বিতীয় দফায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী কারাগারে উপস্থিত থেকে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
আদালতের আদেশ ও ডিবির বক্তব্য:
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালেও গত সোমবার রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রথম দফায় তিন ঘণ্টা এবং আজ বুধবার দ্বিতীয় দফায় বাকি তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, "ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তদন্তে নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। জবানবন্দির তথ্যের সাথে উদ্ধারকৃত আলামত ও নতুন তথ্যের মিল যাচাই-বাছাই করতেই তাঁদের জেলগেটে মুখোমুখি করা হয়েছিল।"
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ, অপরাধের ধরণ এবং ঘটনার আগে ও পরে আসামিদের গতিবিধি সম্পর্কিত স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য শতভাগ উন্মোচনে পেশাদারিত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত দুই আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।