পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের নিঃসঙ্গ (সলিটারি) সেলে বন্দি রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির বিচারবিভাগ।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক মামলার শুনানিতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এ রায় প্রদান করেন। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, জেল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ইমরান ও বুশরাকে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে, প্রয়োজনীয় লেখাপড়ার সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়াতে হবে।
আদালতের যুক্তি ও সুপ্রিম কোর্টের নজির:
ইমরান খান ও বুশরা বিবির পক্ষে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে রায় ঘোষণা করেন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেন সুমরো।
তিনি জানান, কোনো অবস্থাতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে বেআইনিভাবে একাকী কারাবাসে রাখা যাবে না। রায়ে তিনি প্রয়াত পিপিপি নেত্রী নুসরাত ভুট্টো (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর মা) এবং বেগম শামিম আফ্রিদির মামলায় বন্দিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও অবৈধ নিঃসঙ্গ কারাবাস নিষিদ্ধ সংক্রান্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক আদেশের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পটভূমি ও পরিজনদের অভিযোগ:
তোষখানা মামলায় ২০২৫ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড প্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের পাশাপাশি বুশরা বিবিও কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন পিটিআই প্রধান।
ইমরানের স্বজন ও আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বারবার আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের দেখা করতে বাধা দিয়ে আসছিল। একই সঙ্গে সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রীকে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছিল। হাইকোর্টের এই আদেশের পর পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন।