দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রংপুরের চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক মসিউর রহমান (উৎস রহমান) হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিস্তারিত ও খালাস:
আদালতের দেওয়া রায়ে মামলার এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য আসামিদের মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি, তাঁদের আইনজীবী ও নিহত উৎস রহমানের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষুব্ধ বাদীর আপিলের ঘোষণা:
আদালতের ঘোষিত এই রায়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নুরজাহান বেগম। রায় ঘোষণার পরপরই উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "আমরা চূড়ান্ত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ে আমরা কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হতে পারছি না।" তিনি স্পষ্ট জানান, কাঙ্ক্ষিত বিচার সুনিশ্চিত করতে এই রায়ের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) আপিল করা হবে।
হত্যাকাণ্ড ও পেছনের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে রংপুরের স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক যুগের আলো’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মসিউর রহমান উৎসকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পরপর কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিনি চক্রটির চক্ষুশূলে পরিণত হন। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের দিনও তাঁর মাদকবিরোধী প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে রংপুর মহাসড়কের পাশে একটি গাছের সাথে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা হাতুড়ি বা ভারী কোনো বস্তুর আঘাতে পিটিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই মামলার বিচারিক রায় প্রকাশিত হলো।
এ জাতীয় আরো খবর..