প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারকে ‘ডিজিটাল ডাকাত’ ও জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে রংপুরে ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম, রংপুর’-এর আহ্বানে নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ব্যবসায়ী, শিক্ষক, গৃহিণী ও শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
‘ডিজিটাল ডাকাত’ ও অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ:
সমাবেশে বক্তারা প্রিপেইড মিটারকে জনগণের পকেট কাটার যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “প্রিপেইড মিটার চালুর পর থেকে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে যে বিল আসত, এখন রিচার্জের মাধ্যমে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। সরকার সুবিধার কথা বললেও বাস্তবে এটি গ্রাহকদের জন্য এক চরম ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।”
সংগঠনের সদস্য সচিব আহসানুল আরেফিন তিতু বলেন, “রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গেই ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাটসহ নানা অস্পষ্ট খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আজ দিশেহারা। বিদ্যুৎ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি মৌলিক সেবা। জনগণের মতামত না নিয়ে চাপিয়ে দেওয়া এই বাণিজ্যিক প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।”
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ:
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আগে মাস শেষে বিল দিতাম। এখন আগে টাকা ভরতে হয়, আর টাকা শেষ হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ। মাঝরাতে টাকা শেষ হলে পুরো পরিবারকে অন্ধকারে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”
নগরীর এক গৃহিণী শাহিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “রিচার্জের পর কত টাকা কাটছে আর কেন কাটছে, তা গ্রাহকদের স্পষ্ট করে জানানো হয় না। এটা সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা।” রিকশাচালক আব্দুর রহিম জানান, কষ্টার্জিত আয়ের বড় একটি অংশ এখন রিচার্জেই চলে যাচ্ছে, যা তাঁর পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি:
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা স্পষ্ট জানান, অবিলম্বে রংপুর বিভাগে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে সারা দেশে রংপুর অঞ্চল থেকে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..