জমিজমা নিয়ে শত্রুতার জের ধরে মো. মোশারফ হোসেন (৫২) নামের এক সহকারী স্কুলশিক্ষককে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
হুমকির শিকার মোশারফ হোসেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ছাপরহাটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী গ্রামের মো. আব্দুল আজিজ আকন্দের ছেলে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. গাওছুল আলম (৪০) গাইবান্ধা জেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফায়ারম্যান পদে কর্মরত আছেন। তিনি একই গ্রামের মৃত মো. আবদুর রহমানের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ ও জিডির তথ্য:
থানায় লিখিত জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টা ৫৩ মিনিটে শিক্ষক মোশারফ হোসেন নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত গাওছুল আলম তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে কল করে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাণনাশের (জবাই করার) হুমকি দেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও দেখে নেওয়ার ভয়ভীতি দেখান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ছাপরহাটি মৌজায় অবস্থিত ৭৩ শতক জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে গাওছুল আলমের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ রয়েছে। জমিটির এসএ ও বিএস রেকর্ড, পত্তন এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনগত বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে একাধিক মামলা ও আপিল বিচারাধীন। ওই জমির দখল ও মামলার জেরে ক্ষিপ্ত হয়েই ফায়ারম্যান গাওছুল তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন।
পাল্টা বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান:
তবে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মী গাওছুল আলম। তিনি বলেন, "মোশারফ আমার সম্পর্কে জ্যাঠাতো ভাই। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা আদালতে চলমান—এটা সত্য। আইনি প্রক্রিয়াতেই সিদ্ধান্ত হবে জমির মালিক কে। আমি তাঁকে কোনো ধরণের গালিগালাজ বা হত্যার হুমকি দিইনি, সম্পূর্ণ মিথ্যা নাটক সাজানো হচ্ছে।"
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, "স্কুলশিক্ষক মোশারফ হোসেন নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে একটি জিডি নথিভুক্ত করেছেন। অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"