কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাসদ নেতা আনোয়ারুল কবির টুটুল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত আনোয়ারুল কবিরের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম আল হোসাইন সোহাগের নেতৃত্বে তাঁর ওপর এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ জুন নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আনোয়ারুল কবির টুটুল। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য, যুব জোটের সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পদত্যাগের এক মাসের মাথায় তাঁর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনোয়ারুল কবির। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে ৭-৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। চায়নিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে স্থানীয় আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। মাথায় ১১টি সেলাই নিয়ে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
ঢাকা থেকে মুঠোফোনে আনোয়ারুল কবির অভিযোগ করেন, "নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহাগ ও চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। হামলার সময় আমাকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই সোহাগ আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল—জাসদ করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘুরে বাড়ানো যাবে না।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এ এইচ এম আল হোসাইন সোহাগ বলেন, "টুটুল সম্পর্কে আমার মামা হন এবং তাঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে আমি কেন এমন ঘটনা ঘটাতে যাব? কেন তিনি আমার নাম বলছেন, বুঝতে পারছি না।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে সেখানে গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।