ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ তাঁর অবস্থান শনাক্তে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মোজতবা খামেনি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন না। ফলে আধুনিক সাইবার নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স (হিউমিন্ট) বা মানবসূত্রভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অভ্যন্তরে থাকা তথ্যদাতা ও সম্ভাব্য বার্তাবাহকদের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে গোয়েন্দা মহলে বিভিন্ন ধরনের অনুমান রয়েছে। কেউ মনে করছেন তিনি তেহরানের ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থাপনায় অবস্থান করছেন, আবার কেউ ধারণা করছেন রাজধানীর বাইরে কোনো সামরিক বাংকারে তাঁকে রাখা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা রমি ইগরার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক নজরদারির ওপর নির্ভর করে এমন একজনকে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়, যিনি ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তাঁর মতে, বিশ্বস্ত মানবসূত্রই এ ধরনের অভিযানের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
অন্যদিকে মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা অ্যাভনার আভ্রাহাম দাবি করেন, নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে মোজতবা খামেনির পরিবর্তে তাঁর মতো দেখতে অন্য কাউকে ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও এই দাবিরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু তাঁর অবস্থান জানা নয়, বরং তিনি কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন—সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশ কয়েকটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ জাতীয় আরো খবর..