মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। এর অংশ হিসেবে এবার প্রতিবেশী দেশ কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এ হামলা চালানো হয়। হামলা প্রতিহত করতে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
হামলার লক্ষ্য ও আইআরজিসির দাবি:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতের ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং উচ্চপদস্থ এক কমান্ডারের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবি জানায়, সফল আক্রমণের পর উক্ত সামরিক ঘাঁটি ও সংলগ্ন এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলাগুলোকে সরাসরি ‘শত্রুতামূলক’ হিসেবে গণ্য করে তা আকাশেই ধ্বংস করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
সংঘাতের পটভূমি ও পূর্বাপর:
সম্প্রতি ইরানের কৌশলগত লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করে তেহরান। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সামরিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য কুয়েতের সাধারণ জনগণ বা সরকার নয়; বরং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তাঁদের অবকাঠামো। একই সঙ্গে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের মাটি থেকে দ্রুত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।