জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বাংলামোটরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রুপায়ন ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।
উপহার বিনিময় ও রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা:
সাক্ষাৎকালে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াত আমিরের হাতে শাপলা কলির রেপ্লিকা, তোড়া, পাঞ্জাবি ও বোরখার কাপড় উপহার তুলে দেন।
সফর শেষে শফিকুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এ সফর নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ নয়, বরং রাজপথ ও সংসদে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার বার্তা। তিনি বলেন, "সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিগত নির্বাচনে আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি। বার্তাটা খুব স্পষ্ট, আমরা হাতে হাত মিলিয়ে সবাই একসঙ্গে আছি।"
সংসদে বৈষম্য ও ছায়া মন্ত্রিসভার আভাস:
সংসদে বিরোধী দলের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, "সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের সদস্যরা তার ধারেকাছেও পাননি।"
এ ছাড়া সংসদীয় তদারকি জোরদারে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জোটের সম্ভাবনাময় নেতা ও দেশের দক্ষ ব্যক্তিদের এতে সম্পৃক্ত করা হবে। ১১ দলীয় ঐক্যে ফাটলের গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপি বা জামায়াত কারও মাঝেই জোট ছাড়ার কোনো এজেন্ডা নেই।
এনসিপি আহ্বায়কের বক্তব্য:
জামায়াত আমিরের এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমাদের চলমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জামায়াত আমিরের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অতি প্রয়োজন। আগামী সংসদ অধিবেশনে জনগণের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথেও আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।"