হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং ক্রসিং সড়ক মাত্র এক সপ্তাহের রেকর্ড সময়ে পুনর্নির্মাণ শেষ করেছে চীন।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সড়কটির শেষ অংশও যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)।
পুনর্নির্মাণ ও উদ্ধারে নতুন গতি:
হিমবাহ ধসের পর বরফ, পাথর ও কাদার প্রলয়ঙ্করী স্রোতে নেপালের সীমান্তবর্তী শহর রাসুওয়াগাধির সঙ্গে চীনের সংযোগকারী অন্যতম প্রধান এই সড়কটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। চীনা অংশে সড়কটি দ্রুত চালু হওয়ায় দুর্গত এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভারী যন্ত্রপাতি, এক্সকাভেটর এবং উদ্ধারকারী দল পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা নিখোঁজদের অনুসন্ধানে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ৬০০ শ্রমিক, নেপালে মহাবিপর্যয়:
এদিকে নেপালে পরিস্থিতি ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ কাদাভরা টানেল নিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব গভীর টানেলে প্রায় ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, যার মধ্যে একটি কেন্দ্রেই আটকা প্রায় ৫০০ জন। উদ্ধার কাজে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ দলের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯টি দেশের অন্তত ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো আকাশপথে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন:
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং বিশ্ব পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সমগ্র হিমালয় অঞ্চল এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। চীনের তিব্বত অংশে ১৬ জন নিহত ও ৫৫০ জন নিখোঁজ থাকার কথা চীনা গণমাধ্যম জানালেও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ— বেইজিংয়ের কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে তিব্বতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ঢাকা পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নেপালে ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক সহায়তা এসেছে।