ভিয়েতনাম যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত থাইল্যান্ডের বিখ্যাত সমুদ্রতীরবর্তী শহর পাতায়ায় ফের অবকাশযাপনের উদ্দেশ্যে পা রাখছেন প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনাসদস্য।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে এসে নোঙর করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম পরাক্রমশালী বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ (USS Abraham Lincoln)।
২৮৬ দিনের দীর্ঘতম মিশন ও রেকর্ড:
মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরিটির নাবিক ও মেরিন সেনারা একটানা দীর্ঘ ২৮৬ দিন সমুদ্রে মিশন পরিচালনা শেষে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। সাধারণ নিয়মে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মোতায়েন ৬ থেকে ৯ মাস স্থায়ী হলেও মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে কৌশলগত উত্তেজনার কারণে এই মোতায়েন দীর্ঘায়িত হয়।
টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে এটি আধুনিক সামরিক ইতিহাসে অন্যতম একটি দীর্ঘতম রেকর্ড। দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকা এবং জাহাজে মানসিকভাবে চরম ক্লান্তিতে থাকা সেনাদের অবসাদ মেটাতে ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে এই থাইল্যান্ড সফর।
পাতায়া ও মার্কিন সেনার ঐতিহাসিক যোগসূত্র:
সামরিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থাইল্যান্ডে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করতেন। তৎকালীন নিভৃত ও শান্ত একটি মাছধরা গ্রাম ‘পাতায়া’ মার্কিন সেনাদের অবকাশ ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে দ্রুত রূপান্তরিত হয়। মূলত ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন সেনাসদস্যদের আনাগোনা থেকেই পাতায়ায় নাইটলাইফ ও অনানুষ্ঠানিক যৌন পর্যটনের সূচনা ঘটেছিল।
যদিও চলতি শতকে পাতায়া শহরটি পরিবারবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের নতুন রূপ দিয়েছে— যেখানে ওয়াটার পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এ এখনো রাতের পুরোনো বিনোদনের ছাপ রয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অর্থনীতিতে প্রভাব:
বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনার আগমনে থাইল্যান্ডের স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধনাত্মক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে অবকাশকালীন সেনাসদস্যদের আচরণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘শোর প্যাট্রল’ বিশেষ দল থাই পুলিশের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, মার্কিন সামরিক বাহিনী বা ‘ইউসিএমজে’ (UCMJ) আইন অনুযায়ী অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা গ্রহণ করা সেনাসদস্যদের জন্য কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।