দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকট এবং আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
গ্যাস অনুসন্ধানে ৫ দফা ও ১৫০ কূপের কর্মসূচি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, অতীতে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভরতার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইসমিক জরিপ, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০টি কূপ খনন শেষ হওয়ায় দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। সাগরে ও স্থলে গ্যাস অনুসন্ধানে 'অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬' অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। মহেশখালীতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনালসহ পায়রা ও মোংলায় নতুন টার্মিনালের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ বাড়াবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে বিদ্যুৎ ক্রয়:
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যাঁরা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে ‘রুফটপ সোলার’ স্থাপন করবেন, তাঁদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকার আগামী ৩ বছরের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনে নেবে। উৎপাদন ব্যয় ৬ থেকে ৭ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ ও বাণিজ্যিক উৎপাদকদের জন্য লাভজনক হবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার চালু হয়েছে।
১০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান ও ফুলবাড়িয়া কয়লা প্রকল্প:
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, তার মূল ভিত্তি হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। আগামী ১০ বছরের সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী।"
সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নীর অপর প্রশ্নের জবাবে ফুলবাড়িয়ার উচ্চমানের কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় জ্বালানি ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা জরুরি হলেও স্থানীয় মানুষের ক্ষতিসাধন করা যাবে না। ওপেন-পিট পদ্ধতিতে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয়দের যথাযথ পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..