দেশের তীব্র বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে ৯০ দিনের একটি দৃশ্যমান ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কারিগরি প্রকৌশলী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো’ গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তাপিত মূল সুপারিশসমূহ:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে এই কর্মপরিকল্পনার সার্বিক অগ্রগতি প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তিন মাসের মধ্যে নতুন সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান বা দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব না হলেও বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপে সুফল পাওয়া সম্ভব।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া ৯০ দিনের জরুরি কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে:
দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপগুলোর ওয়ার্কওভার (পুনঃখনন ও মেরামত) শুরু করা।
বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা ৩০ দিনের মধ্যে জনসম্মুখে প্রকাশ।
পাইপলাইন নির্মাণের আগ পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় (সিএনজি/এলএনজি) ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে ব্যবহারের আওতা বাড়ানো।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও সিস্টেম লস কমানো।
সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা এবং রুফটপ সোলার বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতিক্রিয়া:
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে কার্যকর পরিকল্পনা চাওয়ার পদক্ষেপকে ইতিবাচক উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, "সংকট সমাধানে বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ আগেই সরকারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নতুন আলোচনার চেয়ে পূর্বের দেওয়া ওই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পুরো দেশের অর্থনীতি ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"
অন্যান্য দাবি ও অবকাঠামোগত প্রশ্ন:
সংবাদ সম্মেলন থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতি ও ট্যারিফ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ, মহেশখালী ও পায়রা টার্মিনাল প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর স্থবিরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।