১৫ বছরের চাকরি জীবনে সততা ও নিয়ম মেনে চলার পরও মূল্যায়নের বদলে ‘ডাম্পিং পোস্টিং’ এবং খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) মো. রেজাউল করিম। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সংকেতও দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজের এই অসন্তোষ ও ক্ষোভের কথা জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে কর্মকর্তার ক্ষোভ:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেজাউল করিম লেখেন, "পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কেন ভালো কাজ করতে অফিসাররা উৎসাহিত হন না, তার আরেকটা উদাহরণ তৈরি হলো আমার পোস্টিং দিয়ে।" দীর্ঘ ১৫ বছরের পুলিশি ক্যারিয়ারে প্রায় ৯ বছরই 'ডাম্পিং পোস্টিংয়ে' কাটিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে এসব নিয়ে কিছু মনে না করলেও বর্তমান পদায়নের ধরণ তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
বিভাগীয় কাজের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ ঝেরে তিনি পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, "এই ডিপার্টমেন্ট তেলবাজদের জন্যই ফিট। আমার মতো উচিত কথা বলা, সাহস নিয়ে সত্য বলা ও নিয়ম মেনে কাজ করা অফিসারের কদর এই ডিপার্টমেন্ট করতে পারবে না। ১০০ শতাংশ সততা নিয়ে কাজ করার পরও যদি এমন ফল দেখতে হয়, তবে এই ডিপার্টমেন্ট আমার জন্য নয়।" অন্যায় মেনে নেওয়ার চেয়ে সংযুক্ত থাকাই শ্রেয় বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এমন বাস্তবতায় তাঁর হয়তো পুলিশে চাকরি করাই আর হবে না।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট:
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম দাবি করেন, সম্প্রতি পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে ‘দৈনিক যুগান্তর’-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি তা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি যথোপযুক্ত উত্তর দেন এবং শেয়ার করা সংবাদটি মুছেও ফেলেন।
সংবাদটি শেয়ার করার কারণেই মূলত তাঁকে খাগড়াছড়িতে বদলি বা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। নিজের পেশাদারত্বের এমন প্রতিদান পেয়ে আক্ষেপ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, "আমাদের পুলিশ বাহিনীতে কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এমনই হয়। বাংলাদেশ পুলিশ ভালো থাকুক, আর ভালো থাকুক তথাকথিত সৎ ও সফল কর্মকর্তারা।"