ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের মতো বিশ্বখ্যাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়ে নিজেদের মেধা, কনটেন্ট আর কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে রংপুর থেকে যাত্রা শুরু করেছে দেশীয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্রিডার’ (Freeder)। ‘নিজেদের কণ্ঠ, নিজেদের প্ল্যাটফর্ম’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলতে শুরু করেছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি কেবল একটি সাধারণ অ্যাপ নয়; বরং বাংলাদেশিদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, সংবাদ, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা প্রকাশের ডিজিটাল ঠিকানা।
যেসব ফিচার ও সুযোগ থাকছে:
ফ্রিডারে বন্ধু সংযোগ, নিউজ ফিড ও ভয়েস চ্যানেলের মতো নানা আকর্ষণীয় সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষায় প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী সিকিউরিটি ও ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা।
তরুণ প্রজন্ম ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্বুদ্ধ করতে এতে রাখা হয়েছে সহজ আয়ের সুযোগ। প্রচলিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মতো দীর্ঘ প্রতীক্ষা না করে মাত্র ১ হাজার ফলোয়ার হলেই কনটেন্ট নির্মাতারা তাঁদের পেজ মনিটাইজেশনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে বেকার তরুণ-তরুণীদের ঘরে বসেই আয়ের পথ সুগম হচ্ছে।
অল্প খরচে প্রোফাইল ভেরিফিকেশন ও এম্বাসেডর প্রোগ্রাম:
ফ্রিডারের মার্কেটিং প্রধান বাদশা আলম জানান, মাত্র ১৫০ টাকায় প্রোফাইল ভেরিফিকেশন, ৩০০ টাকায় পেজ ভেরিফাইড (ব্লু ব্যাজ), নামমাত্র মূল্যে পোস্ট প্রমোট এবং ১ হাজার ফলোয়ারে মনিটাইজেশনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মনিটাইজেশন ছাড়াও ‘ফ্রিডার অ্যাম্বাসেডর প্রোগাম’-এ যুক্ত হয়ে যে কেউ আয় করতে পারবেন।
ফ্রিডারের হেড অব সাপোর্ট রেজাউল করিম জানান, সাইবার বুলিং ও অশ্লীল বা হেয়পূর্ণ কনটেন্ট রোধে অ্যাপটিতে কঠোর মডারেশন চালু রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে।
সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের স্বপ্ন:
সামাজিক মাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা আখতারুজ্জামান জানান, অতীতে সরকারি উদ্যোগে একাধিক দেশীয় সামাজিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করা হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। সেই ভুলগুলো পর্যালোচনা করে ফ্রিডার ব্যবহারকারীর চাহিদা ও ডেটা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের প্রায় ১০ হাজার নিবন্ধিত ব্যবহারকারী এতে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "রংপুরের ধাপ এলাকায় একটি ছোট্ট কার্যালয়ে ১৬ জন কর্মীকে নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ফেসবুকের মতো জায়ান্ট প্ল্যাটফর্মের সাথে প্রতিযোগিতা সহজ নয়। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে দেশের অর্থ দেশের ভেতরেই রাখা এবং মেধা দিয়ে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।"
এ জাতীয় আরো খবর..