রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা তাঁকে আটক করার চেষ্টা করেন। তবে সুযোগ বুঝে তিনি কৌশলে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ:
অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গঙ্গাচড়া মডেল থানা-পুলিশের পাহারায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পটভূমি ও পুরোনো অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক এক ছাত্রীর সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ ও শ্লীলতাহানি করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও জানায়, ওই শিক্ষকের আচরণে তারা দীর্ঘ দিন ধরে অস্বস্তিবোধ করছিল। অন্যদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক কোমলমতি শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য:
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, "উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অবরুদ্ধদের বের করা হয়। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে এই শিক্ষক যেন আর কোনো দিন শিক্ষকতায় ফিরতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করা উচিত।"
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক জানান, "পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষককে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, খবর পেয়ে অবরুদ্ধদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..