পাবনার সদর উপজেলার চর কোমরপুর এলাকায় সরকারি বিএডিসির সেচ প্রকল্পসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. উজ্জল (৩৮), মো. আরমান ফকির (৩৮), মো. জহুরুল ইসলাম (৩০), মো. দুলাল ফকির (৩৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৩০) ও মো. জীবন (২৮)।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই রাতে সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের চর কোমরপুর এলাকায় বিএডিসির সেচ প্রকল্পের পাশে স্থাপিত পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১০ কেভিএ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এ ঘটনায় সেচ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষক শাহিনুর রহমান সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তার হওয়া জীবন-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি ট্রান্সফরমারের কোর, প্রায় ৯.২ কেজি চিকন তামার তার, ৭.২ কেজি মোটা ও চ্যাপ্টা তামার তার এবং ৩৩ কেজি ওজনের টিনের কোর প্লেট।
এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত হাতুড়ি, ছেনি, রেঞ্চ, কাটার প্লাস, হ্যাকসো ব্লেড, রশি, শাবল, লোহার রড এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী শাহিনুর রহমান ডিবি পুলিশের দ্রুত অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, গত বছর তার আরও দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হলেও সেগুলো উদ্ধার হয়নি। তবে এবার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ জাতীয় আরো খবর..