যশোরের শার্শা উপজেলায় 'এ এফ মৎস্য খামারে' সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় মালিকপক্ষের দাবির সঙ্গে বাস্তব অনুসন্ধানের চরম বৈপরীত্য পেয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অক্সিজেন সংকটে মাছগুলো মারা গেছে বলে মালিকপক্ষ যে অভিযোগ তুলেছিল, সরকারি তদন্তে তার কোনো সত্যতা মেলেনি।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২৫ আগস্ট তদন্ত দলটি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের সুনির্দিষ্ট চিত্র:
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে গত ২২ আগস্ট রাতে মাত্র ৪৪ মিনিট (রাত ১:৪২ থেকে ২:২৬ পর্যন্ত) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এমনকি লোডশেডিং শুরু হওয়ার পূর্বেই খামারের পুকুরগুলোতে মাছ মরতে শুরু করে। ফলে বিদ্যুতের অনুপস্থিতির কারণে বিশাল এ বিপর্যয় ঘটেছে—মালিকপক্ষের এমন যুক্তি নাকচ করে দিয়েছে তদন্ত দল।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি:
তদন্ত দলের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব, উচ্চ আমিষযুক্ত অতিরিক্ত খাবার প্রয়োগ, জৈব বর্জ্যের মারাত্মক চাপ ও ফাইটোপ্ল্যাংকটনের আধিক্যই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। এ ছাড়া পানিতে পিএইচ (pH), মারাত্মক অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাবে মাছগুলো শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। পুকুরে বিপুল পরিমাণ মাছের তুলনায় এয়ারেশন (বাতাস সরবরাহের যন্ত্র) ব্যবস্থা ছিল একেবারেই অপ্রতুল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফজলে ওয়াহিদ জানান, সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ থাকার দাবি করা সত্ত্বেও খামারটিতে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে কোনো জেনারেটর বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। মূলত ঘনত্বের তুলনায় বাতাস সরবরাহের অভাব ও সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার কারণে এই বড় ধরণের ক্ষতি ঘটেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খামারের যৌথ মালিক আলফাজুল হকের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বস্তুনিষ্ঠ সত্যতা যাচাই না করে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল।