প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 25, 2026 ইং
হারাগাছে রাজমিস্ত্রি হত্যা: ঘাতক হত্যার পর বসে ইয়াবা সেবনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুরের হারাগাছ পৌর শহরের চরচতুরা গ্রামের এক নির্জন সড়কে রাজমিস্ত্রি আবু বক্কর সিদ্দিককে (৩৫) নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠিয়েছে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে তাঁরা জানিয়েছে, রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যার পর পাশের পুকুরে রক্তমাখা চায়নিজ কুড়াল ধুয়ে বালুর নিচে পুঁতে রেখে তাঁরা ঘরে বসে আরামে ইয়াবা সেবন করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়:
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন—লালমনিরহাট সদরের কালমাটি মিলনবাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে সাজুল মিয়া সাজু (২৮) এবং একই উপজেলার বাঁশদশ মিলনবাজার এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে হাফিজুল ইসলাম (২০)। তারা দুজন একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারী হকেরবাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আটক অভিযান:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম জানান, গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে রাজমিস্ত্রি সিদ্দিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও পিবিআই টিম রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতেই প্রধান অভিযুক্ত সাজুকে আটক করা হয়। পরে সাজুর তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার তাঁর বন্ধু হাফিজুলকেও আটক করা হয়। সাজুর স্ত্রী মুন্নি বেগমকে ঘটনার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পরকীয়া ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিবরণ:
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মূলত অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের টানা-পোড়েন ও পরকীয়ার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সাজুর স্ত্রীর সাথে রাজমিস্ত্রি সিদ্দিকের যোগাযোগের চেষ্টা নিয়ে সাজু বেশ ক্ষিপ্ত ছিলেন।
এর জেরে রোববার রাতে সাজু ও তাঁর বন্ধু হাফিজুল কৌশলে সিদ্দিককে ডেকো আনেন এবং চরচতুরা গ্রামের সীমান্তে নির্জন সড়কে নিয়ে যান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে সিদ্দিকের ঘাড়ে, কপালে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন তাঁরা। সিদ্দিককে কুপিয়ে জখম করার সময় দুর্ঘটনাবশত কুড়ালের আঘাতে সাজুর নিজের বাঁ পা-ও কেটে রক্তাক্ত হয়।
হত্যার পর ইয়াবা সেবন:
পিবিআই আরও জানায়, সিদ্দিকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুই বন্ধু পাশের এক পুকুরে গিয়ে আলামত ধুয়ে বালুর নিচে অস্ত্র লুকিয়ে রাখেন। এরপর সাজুর বাড়িতে গিয়ে অনায়াসে বসে ইয়াবা সেবন করেন।
পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, "ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গ্রেপ্তার দুই আসামি সাজু ও হাফিজুল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যার সার্বিক তদন্তভার পরিচালনা করছে পিবিআই।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রংপুর টিভি ২৪