দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিপা মনি (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফুলবাড়ী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় দিনাজপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিপা মনি ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের ইসতামুল হকের মেয়ে। সে ফুলবাড়ী পৌর শহরের ‘নর্থ পয়েন্ট স্কুল’-এর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা রিক্তা পারভিন একই বিদ্যালয়ে আয়া পদে কর্মরত।
দুর্ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মায়ের সঙ্গে হেঁটে স্কুলে যাচ্ছিল শিশু শিপা মনি। পথিমধ্যে বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় দিনাজপুর থেকে বিরামপুরগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাকে পিষে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় শিপাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহাসড়ক অবরোধ ও প্রশাসনের আশ্বাস:
শিপা মনির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্বজনদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তাঁরা ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে দিনাজপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন। এর ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ পেয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহম্মেদ হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক বাস চালকের বিচার এবং সড়ক নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আইনি ব্যবস্থা:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস আলম জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তবে ঘটনার পর পরই চালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।