মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল। মাটি খুঁড়ে মোট ৯৬টি অক্ষত ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৭টি ট্যাংকবিধ্বংসী এবং ৭৯টি মানববিধ্বংসী (আর্মড) ল্যান্ডমাইন।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে যশোর সেনানিবাসের ১৯ সদস্যের একটি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
যেভাবে সন্ধান মিলল ল্যান্ডমাইনের:
পুলিশ ও বিজিবি জানায়, গত শনিবার বেতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক কালু মালিথা জমিতে কাজ করার সময় মাটির নিচে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুর সন্ধান পান। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বিজিবির সদস্যরা দ্রুত এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলেন। টানা দুই দিন কঠোর নিরাপত্তার পর আজ সোমবার সকালে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ টিম বেতবাড়িয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনীর মেজর তরিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জমি খনন করে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রামের বাইরে একটি নিরাপদ ও ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তরিত করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সবকটি মাইন ধ্বংস করা হয়।
এলাকাবাসীর আতঙ্ক ও স্থানীয়দের সংশয়:
একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ট্যাংক ও মানববিধ্বংসী ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো বেতবাড়িয়া গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কি না এবং আশপাশের অন্যান্য জমিতে আরও বিস্ফোরক পুঁতে রাখা আছে কি না—তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে পুরো এলাকায় বড় পরিসরে তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাটি এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। আশপাশে আরও বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।