ব্যাংকে গচ্ছিত ১৭ লাখের বেশি টাকা আত্মসাতের লোভে অসুস্থ বৃদ্ধ পিতাকে শ্বাসরোধে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কনিষ্ঠ কন্যার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে ওই বৃদ্ধের গলিত মরদেহ উত্তোলন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ বুধবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা সংলগ্ন এক কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মরদেহটি তোলা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
নিহত ব্যক্তির নাম তৈয়ব আলী সরকার, যিনি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
মামলা ও ঘটনার বিবরণে যা রয়েছে:
গত ২৩ জুন নিহতের বড় মেয়ে কহিনুর বেগম (৬০) বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ (৪৫) চারজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি এবং দুজনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন রহিমার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, জামাতা হামিদুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিঞা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তৈয়ব আলীর নামে স্থানীয় ব্যাংকে ১৮ লাখ টাকার মতো জমা ছিল। ওই গচ্ছিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছোট মেয়ে রহিমা তাঁর বাবার ব্যাংকের চেকের পাতা চুরি করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি ব্যাংকে লিখিত আবেদন জানান তৈয়ব আলী, যেন তাঁর অজান্তে কেউ টাকা তুলতে না পারে।
পরবর্তীতে গত ১৪ মার্চ অসুস্থ পিতাকে চিকিৎসার দোহাই দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান রহিমা। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বড় বোনকে চিকিৎসা করাতে রংপুর পাঠাতে দেননি তিনি। অভিযোগ উঠে, এরপর আসামিরা জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর আদায় করে দুই ধাপে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন।
এজাহারে দাবি করা হয়, টাকা তুলে নেওয়ার গোপন তথ্যটি যাতে জানাজানি না হয়, সেজন্য গত ১৯ মে রাতে অন্য সহযোগীদের সহায়তায় বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন রহিমা। পরবর্তীতে তাড়াহুড়ো করে মরদেহ দাফন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশের বক্তব্য:
সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, "উত্তোলনের পর মরদেহটি প্রাথমিক ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে নিখুঁত ময়না তদন্তের প্রয়োজনে আজ সকালে তা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য স্পষ্ট হবে এবং সে অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।"