রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চতরা হাটের প্রায় ১০ একর সরকারি জমির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে চলে গেছে। অনিয়ন্ত্রিত দখলের কারণে হাটের স্বাভাবিক বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা; অন্যদিকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
চতরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ইকলিমপুর মৌজার সিএস ও এসএ ডেক্সভুক্ত ৯ একর ৮০ শতক জমি চতরাহাটের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু দীর্ঘদিনের তদারকিহীনতায় হাটের মূল জায়গার বেশিরভাগই দখলদারদের কবলে চলে গেছে। ২০২৩ সালের ভূমি কার্যালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমপক্ষে ৩০৮ জন তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার রয়েছে, তবে বর্তমানে এই সংখ্যা চার শতাধিক ছাড়িয়েছে। এমনকি হাটের দুটি দাগের ২৫ শতক জমি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
হাটের নির্ধারিত জায়গা না থাকায় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের বসতে হচ্ছে চতরা ডিগ্রি কলেজের মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের ওপর। এতে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
২০২৪ সালে প্রায় ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা নেওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, দখলমুক্ত জমি না পাওয়ায় তিনি পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট করেন এবং শেষ পর্যন্ত ইজারা নবায়ন করেননি। তাঁর মতে, পুরো হাটটি দখলমুক্ত ও পরিকল্পিত করা গেলে সরকারের ইজারা মূল্য বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান, ২০২০ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুর্নবাসনে ৪০০ দোকান নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পুরো ঘটনা তদন্ত করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর অবৈধ দখল উচ্ছেদে জেলা প্রশাসকের নিকট সুপারিশ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।